• রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শীর্ষ সংবাদ
জেন্ডার সংবেদনশীল প্রতিবেদনে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের পুরস্কার পেলেন ৩ সাংবাদিক এক্সরে রেজিস্ট্রারের হাতের লেখা স্পষ্ট করতে বললেন ঔষধাগারের পরিচালক রাজশাহীতে নাগরিক সমস্যা সমাধানে মাল্টি-পার্টি এ্যাডভোকেসি ফোরামের গোলটেবিল বৈঠক সংসদে অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে নারী এমপিদের বিশেষ আইন প্রণয়নের আহ্বান প্রশ্ন শুনেই রেগে বেফাঁস মন্তব্য, সাংবাদিকদের তোপের মুখে রাজশাহী-১ আসনের এমপি ফারুক চৌধুরী  রাজশাহীর পবায় ফারুক, মোহনপুরে আফজাল হলেন উপজেলা চেয়ারম্যান রাজশাহীতে শ্বশুরবাড়ি থেকে ১০ আগ্নেয়াস্ত্রসহ জামাই গ্রেফতার দেশে কোন রাজনৈতিক মামলা হয় না: অ্যাটর্নি জেনারেল ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হলেন বেলাল উদ্দিন সোহেল রাজশাহীর তানোরে ময়না, গোদাগাড়িতে সোহেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত

নাচোলে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস

Reporter Name / ১১৯ Time View
Update : বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁপাইবনাবগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম শান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত নাচোল পৌরসভা। এখানে আগামী ২৮ তারিখ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পৌরসভা নির্বাচন। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ততই জমে উঠেছে। চায়ের দোকানে আড্ডার ফাঁকে চলছে প্রার্থীদের নিয়ে আলাপ-আলোচনা। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে করছেন প্রচার চালাচ্ছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

নির্বাচনি প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। প্রতিদিনই প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরামর্শমূলক সভা, পথসভা, উঠান বৈঠক এবং মাইকিং করে যাচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী বর্তমান মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালু, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মাসুউদা আফরোজ হক শুচি, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রেল ইঞ্জিন প্রতীকের আমানুল্লাহ আল মাসুদ ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী চামচ প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম বাবু।

ভোটের লড়াই কেউ কাউকে বিন্দুমাত্রও ছাড় দিতে রাজি নন। ভোটের মাঠের চিত্রও তেমন দেখা গেছে।
জেলার অন্য চারটি পৌরসভার মধ্যে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি অঞ্চল নিয়ে নাচোল পৌরসভা গঠিত হয়েছে। পৌরসভাটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২০১১ সালে প্রথম নির্বাচনে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির আব্দুল মালেক চৌধুরী মিঠু। সেবারের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মজিদুল হক দ্বিতীয় ও আওয়ামীলীগ সমর্থিত বর্তমান মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালু তৃতীয় হন।

পরেরবার সর্বশেষ দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জনের মধ্যে আ’লীগের আব্দুর রশিদ খান ঝালু ৩২১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ইঞ্জিন প্রতীক নিয়ে নিয়ে আমানুল্লাহ আল মাসুদ ২৭২০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় ও তৎকালীন মেয়র মালেক চৌধুরী মিঠু মোবাইল ফোন প্রতীকে ৫১৫ ভোট পেয়ে জামানত হারান। ২৬৪১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন বিএনপির কামরুজ্জামান।
২০১৫ সালের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১২ হাজার ৩৪৫। এবার ভোটার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫ হাজার ৮। গত নির্বাচনে ৭জন মেয়র প্রার্থী থাকলেও এবার রয়েছেন ৪জন। যাদের প্রত্যেককেই হেভিওয়েট ভাবছেন স্থানীয় শিক্ষিত সমাজ।

২৮ তারিখের নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র আব্দুর রশিদ খাঁন ঝালু ব্যাপক গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি সমানভাবে চালাচ্ছেন উঠান বৈঠক ও মাইকিং। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি মেয়র থাকাকালীন পৌরসভার ব্যাপক উন্নতি করেছি। পাড়ায় পাড়ায় রাস্তা ও ড্রেন হয়েছে। অসহায় লোকজন পেয়েছেন বিধবা ও বয়স্ক ভাতার কার্ড। দেওয়া হয়েছে মাতৃত্বকালীন ভাতা। বিশেষ করে শহরের সড়কে রাতে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছে। পৌরবাসী পেয়েছেন সুন্দর আধুনিক পৌর শহর। জলাবদ্ধতা কমেছে। নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার হচ্ছে। মেয়র হিসেবে করোনাকালীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। বর্তমানে পৌরসভায় তিনটি ডিপ টিউবওয়েলের কাজ চলমান রয়েছে।

সমান তালে নির্বাচনী মাঠ চোষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী মাসউদা আফরোজ হক শুচি। তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভাকে আধুনিক ডিজিটাল পৌরসভা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাদক ও দুর্নীতি মুক্ত পৌরসভা গড়তে পৌর নাগরিকদের সাথে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি করোনা মহামারীতে নাচোলের অসহায় মানুষের পাশে ছিলেন। করোনাকালে দুস্থ্যদের পাশে দাঁড়ানোই রাজনৈতিক মাঠে নতুন শুচিকে আলোচনায় এনেছে প্রবলভাবে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে এলাকার অসহায় দরিদ্র মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা ও গরিব ছাত্রদের পড়াশুনার জন্য আর্থিক সহায়তা করে তিনি বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন।

রেল ইঞ্জিন নিয়ে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আমানুল্লাহ মাসুদও দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার মানুষের আপদে বিপদে থেকে নিজেকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন। তিনিও বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষের বিপদে আপদে দাঁড়িয়ে আলোচিত।

অন্যদিকে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিম বাবু নাচোল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে লড়ছেন মেয়র পদে। তিনিও আলোচনার রয়েছেন ভোটের মাঠে। তাছাড়া স্থানীয় আওয়ামীলীগের একটা অংশ ভেতরে ভেতরে তার জন্য কাজ করায় তিনিও সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন।

সব হিসেব মিলেয়ে দেখা গেছে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে নাচোল পৌরসভায় লড়াই হবে চতুর্মুখি। তবে এ চতুর্মুখি লড়াইয়ের মাঝে অন্য দুইজনের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন নৌকার প্রার্থী ঝালু খান ও ধানের শীষের প্রার্থী শুচি। নির্বাচনী মাঠ ঘুরে সর্বশেষ এমন অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।

নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন ছাড়াও ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিবতা করছেন। তারাও নিজ নিজ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ইভিএমে নাচোল পৌরসভায় ভোট গ্রহণ হবে।

আরবিসি/২৪ ফেব্রুয়ারি/ রোজি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category