• শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শীর্ষ সংবাদ
জেন্ডার সংবেদনশীল প্রতিবেদনে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের পুরস্কার পেলেন ৩ সাংবাদিক এক্সরে রেজিস্ট্রারের হাতের লেখা স্পষ্ট করতে বললেন ঔষধাগারের পরিচালক রাজশাহীতে নাগরিক সমস্যা সমাধানে মাল্টি-পার্টি এ্যাডভোকেসি ফোরামের গোলটেবিল বৈঠক সংসদে অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে নারী এমপিদের বিশেষ আইন প্রণয়নের আহ্বান প্রশ্ন শুনেই রেগে বেফাঁস মন্তব্য, সাংবাদিকদের তোপের মুখে রাজশাহী-১ আসনের এমপি ফারুক চৌধুরী  রাজশাহীর পবায় ফারুক, মোহনপুরে আফজাল হলেন উপজেলা চেয়ারম্যান রাজশাহীতে শ্বশুরবাড়ি থেকে ১০ আগ্নেয়াস্ত্রসহ জামাই গ্রেফতার দেশে কোন রাজনৈতিক মামলা হয় না: অ্যাটর্নি জেনারেল ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হলেন বেলাল উদ্দিন সোহেল রাজশাহীর তানোরে ময়না, গোদাগাড়িতে সোহেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত

মিশ্র ফলবাগানে ঝুঁকছেন বেকার যুবকরা

Reporter Name / ১৪৪ Time View
Update : শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০২১

সাপাহার প্রতিনিধি: নওগাঁর সীমান্তবর্তী সাপাহার উপজেলা ইতোমধ্যে কৃষিপণ্য নির্ভরশীল এলাকা হিসেবে সারাদেশে সুনাম অর্জন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় অন্যের জমি লিজ নিয়ে মিশ্র ফল বাগান তৈরি করে বেশ কয়েকজন সফলতা পেয়েছেন। তবে তাদের অন্যতম উপজেলার ফুটকইল গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সাখাওয়াত হাবিব।

একই সঙ্গে তার আম ও বরই বাগানে দিনমজুরির কাজ করে খেয়ে পরে সুখে দিন কাটাচ্ছে এলাকার অন্তত শতাধিক পরিবার। শুধু সাখোয়াত নয়, এ রকম শতাধিক কৃষক মিশ্র ফলবাগান করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, তার আম গাছের সারির ফাঁকে ফাঁকে চার ফুট উচ্চতার একেকটি গাছ। ডালে থোকায় থোকায় ধরে আছে বলসুন্দরী বরই। পরিপক্ব বরইগুলো দেখতে অনেকটা লাল ও সবুজাভ আপেলের মতো। ১১২ বিঘার বিশাল এই বাগানে এবারই প্রথম বরই ধরেছে। ইতোমধ্যেই অর্ধেক বরই বিক্রি হয়েছে। প্রতিদিন ১০০ মণ বরই নামছে তার বাগান থেকে। এবার বরই বিক্রি করে তিনি প্রায় কোটি টাকা আয় করবেন।

গতবছর আমের মৌসুমে মিশ্র ফলের এই বাগান থেকে ২৫ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছিলেন তিনি। মিশ্র ফল বাগান করে সাখাওয়াত এলাকার অন্য কৃষকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার এই বাগান দেখে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন বহু লোক আসেন। অনেকে তার কাছ থেকে মিশ্র ফলবাগান তৈরির পরামর্শ নেন। তার বিশাল এ মিশ্র ফল বাগানটি উপজেলা সদর থেকে চার কিলোমিটার দূরে শিরন্টি ইউনিয়নের ফুটকইল গ্রামের পাশে অবস্থিত।

১১২ বিঘা জমি জুড়ে দুই বছর আগে গড়ে তোলা এ বাগানে আম্রপালি, আর্শ্বিনা, বারি-৪ ও গৌড়মতি জাতের আম গাছ রয়েছে। তবে আম্রপালি জাতের আম গাছই বেশি। গাছের সারির ফাঁকা জায়গায় লাগিয়েছেন বলসুন্দরী, কাশ্মীরি আপেল, বেবি কুল, সেডলেস ও থাইকুল জাতের বরই গাছ। ১১ হাজার ৭০০টি বরই গাছের মধ্যে বল সুন্দরী জাতের বরই গাছই বেশি। পাঁচ থেকে ছয় ফুট উচ্চতার আমের গাছের সারির মাঝে চার থেকে সাড়ে চার ফুট উচ্চতার একেকটি বরই গাছ।

এসব গাছের ডালে থোকায় থোকায় ধরে আছে বরই। আমের গাছগুলোতে মুকুল এসেছে। বিশাল সেই বাগানে ১০-১২ জন করে শ্রমিক বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে গাছ থেকে পাকা বরই ছিঁড়ছেন। বাগান থেকে সদ্যতোলা বরই কিনতে রাজশাহী ও পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন।

সাখাওয়াত জানান, বছরে প্রতিবিঘা জমি ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে ২০১৯ সালে ফুটকইল গ্রামের ওই মাঠে ১১২ বিঘা জমি ১২ বছরের জন্য লিজ নেন। ওই বছরেই ইজারা নেওয়া জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ১২ হাজার ৮০০টি আমের গাছ লাগান। গতবছর ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে সেই বাগান পরিদর্শনে এসে সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আম গাছের সারির ফাঁকা জায়গায় উন্নত বরই গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন।
তার পরামর্শ মতো তিনি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বরই গাছের চারা সংগ্রহ করেন এবং আমগাছের সারির ফাঁকে ফাঁকে ১ ফুট লম্বা সমপরিমাণ ১১ হাজার ৭০০টি বরই গাছের চারা রোপণ করেন। গত বছরের মে মাসে তিনি এসব চারা রোপণ করেন। ১১২ বিঘা জমিতে বরই চাষ করতে তার প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০০৭ সালে তার নিজের একটি মোটরসাইকেল ও মায়ের দেওয়া একটি গাভী বিক্রি করে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় পত্নীতলায় নির্মইল এলাকায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১২ বিঘার একটি আমের বাগান তিন বছরের জন্য লিজ নেন। ওই বাগান পরিচর্যা করে পরের বছরই সেই বাগানের আম বিক্রি করে তিনি ৪ লাখ টাকা আয় করেন। লাভের সেই টাকা দিয়ে ১২ হাজার টাকা বিঘা চুক্তিতে ১২ বছরের জন্য নির্মইল এলাকায় আরও ২০ বিঘা জমি ইজারা নেন। সেখানে গড়ে তোলেন আমের বাগান।
এরপর প্রতিবছর তার পুঁজি বাড়তে থাকে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় মিশ্র চাষ অধিক লাভজনক। মিশ্র বাগানে তেমন কোনো পরিচর্যা করতে হয় না। প্রথমে গাছ লাগানো এবং জমি তৈরির পর কীটনাশক ও যৎসামান্য পরিচর্যা ছাড়া কঠিন কোনো পরিচর্যা করতে হয় না।
সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, সাখাওয়াত হাবিব যেন আরও বেশি লাভবান হতে পারেন সেজন্য তিনি তার আম বাগানের ফাঁকা জায়গা ফেলে না রেখে সেখানে বরই চাষ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

অনেক কৃষক সাখাওয়াতের মতো মিশ্র ফলবাগান গড়ে তোলার জন্য তাদের কাছে পরামর্শ নিতে আসছেন। আমের পাশাপাশি প্রতি বছরই উপজেলায় বরই চাষ বাড়ছে।

আরবিসি/১২ মার্চ/ রোজি

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category