• শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শীর্ষ সংবাদ
জেন্ডার সংবেদনশীল প্রতিবেদনে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের পুরস্কার পেলেন ৩ সাংবাদিক এক্সরে রেজিস্ট্রারের হাতের লেখা স্পষ্ট করতে বললেন ঔষধাগারের পরিচালক রাজশাহীতে নাগরিক সমস্যা সমাধানে মাল্টি-পার্টি এ্যাডভোকেসি ফোরামের গোলটেবিল বৈঠক সংসদে অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে নারী এমপিদের বিশেষ আইন প্রণয়নের আহ্বান প্রশ্ন শুনেই রেগে বেফাঁস মন্তব্য, সাংবাদিকদের তোপের মুখে রাজশাহী-১ আসনের এমপি ফারুক চৌধুরী  রাজশাহীর পবায় ফারুক, মোহনপুরে আফজাল হলেন উপজেলা চেয়ারম্যান রাজশাহীতে শ্বশুরবাড়ি থেকে ১০ আগ্নেয়াস্ত্রসহ জামাই গ্রেফতার দেশে কোন রাজনৈতিক মামলা হয় না: অ্যাটর্নি জেনারেল ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হলেন বেলাল উদ্দিন সোহেল রাজশাহীর তানোরে ময়না, গোদাগাড়িতে সোহেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত

মুজিব চিরন্তন

Reporter Name / ২২৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১

বিশেষ প্রতিবেদক : দশ দিনের ‘মুজিব চিরন্তন’ এর মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরব্যাপী জমকালো অনুষ্ঠান। মহামারী করোনার মধ্যেও যতটা সম্ভব বিজয়ের ৫০তম বার্ষিকীকে রাঙিয়ে তুলতে চায় সরকার। বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চায় ১৯৭১ সালে নতুন মানচিত্র পাওয়া বাংলাদেশের বিজয় অর্জনকে। স্মরণীয় করে রাখতে চায় এ প্রজন্মের হৃদয়ের মণিকোঠায়। আর ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে সৃষ্টি করতে চায় সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের ইতিহাস।

বছরজুড়ে এসব অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যদিয়ে বাঙালী জাতি একদিকে যেমন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করবে, তেমনি উদ্যাপন করবে দেশের বিজয়ের ৫০ বছর। ঢাকায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আগামী ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিনের নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দেশে শুরু হবে মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। ১০ দিনের উদ্বোধনী আয়োজনের থিম করা হয়েছে ‘মুজিব চিরন্তন’। অনুষ্ঠানমালায় বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম তুলে ধরা হবে। এতে যোগ দিতে ঢাকায় আসবেন বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক। জাতির পিতার জন্ম না হলে বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না। আর বাংলাদেশ সৃষ্টি না হলে এদেশের মানুষ স্বাধীন দেশের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করতে পারত না। ফলে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০তম বার্ষিকীকে ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় করে রাখতে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ সরকার কোন কিছুরই কমতি রাখছে না।

জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ১০ দিনব্যাপী জমকালো উদ্বোধনের পর ৫০টি জাতীয় পতাকা সংবলিত স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী র‌্যালি শুরু হবে ঢাকা থেকে। যা দেশের ৬৪টি জেলা প্রদক্ষিণ করে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরবে। ১৬ ডিসেম্বরই সুবর্ণজয়ন্তীর বছরব্যাপী কর্মসূচী সমাপ্ত হবে। এদিন মুজিববর্ষের কর্মসূচীও শেষ হবে। এর মাঝখানে বছরজুড়ে সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে নানা অনুষ্ঠান। তবে শেষ মুহূর্তে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দুটি ব্যতিক্রমী আয়োজন লেজার শো ও ড্রোন শো হচ্ছে না। গত ১০ মার্চ সরকারী ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন অনুষ্ঠান থেকে ড্রোন শো ও লেজার শো সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপিত হলে সেটি বাদ দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘করোনার সংক্রমণ আবারও বেড়ে যাচ্ছে। এ সময়ে এ ধরনের শো করলে অনেক ছেলেমেয়েসহ পুরো ফ্যামিলি চলে আসবে। এতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হবে না। এই ভয়ে আমরা এই অংশগুলো বাদ দিয়ে বাকি অংশগুলো উদ্যাপন করার অনুমতি দিয়েছি। আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ঠিক করেছিলাম একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের, যা এ দেশের মানুষ কোন দিন দেখেনি। এজন্যই ড্রোন শো, লেজার শো’র আয়োজন করার চিন্তা ছিল।’

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এ মাসে ঢাকা সফর করবেন দক্ষিণ এশিয়ার ৫ জন শীর্ষ নেতা। মুজিব চিরন্তন অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা সরাসরি যোগ দিচ্ছেন। অর্থাৎ মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম মু. সালেহ, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে, নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত থেকে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ওপর বক্তৃতা করবেন।

এছাড়া, এই অনুষ্ঠানে ৬টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। এরা হলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউশিহিদে সুগা, ক্যাথলিক খ্রীস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী চুং স্যু-কুয়েন এবং তাকাশি হাওয়াকাওয়ার পুত্র ওসামু হাওয়াকাওয়া।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, ‘১৭ থেকে ২৬ মার্চ- এই ১০ দিন আমরা বড় আকারে অনুষ্ঠানের আয়োজন করছি। এ সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার ৫ জন শীর্ষ নেতা ঢাকায় আসবেন। তারা সবাই স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু বা অন্য বিষয়ে একটি করে লেকচার দেবেন। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে।’

১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উদ্বোধনী আয়োজনটি চীনের টেলিভিশন চ্যানেলেও সম্প্রচার করা হতে পারে। এ ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর যৌথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগামী ২৬ মার্চ সকালে ঢাকা আসবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সফরের প্রথম দিনে তিনি ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণরেখা’ শীর্ষক জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করতে টুঙ্গিপাড়া যাবেন তিনি। এছাড়া গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে মতুয়া ধর্মমতের প্রবক্তা হরিচাঁদ ঠাকুরের বাড়িতেও যেতে চান নরেন্দ্র মোদি। গোপালগঞ্জ থেকে বরিশাল হয়ে তার ঢাকা ফেরার কথা ছিল। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বরিশাল উজিরপুরের শিকারপুরস্থ সুগন্ধা শক্তিপীঠের বদলে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে অবস্থিত যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে যেতে বেশি আগ্রহী মোদি।

জানা যায়, তুরস্ক এবং হাঙ্গেরির রাষ্ট্র প্রধানও এই সময়ের মধ্যে ঢাকা সফেরের কথা ছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমণ এখনও নিয়ন্ত্রণে না আসায় শেষ পর্যন্ত তাদের সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এসব অনুষ্ঠানে ৫ রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান ছাড়াও স্বাধীনতার স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত বিদেশী অতিথিকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম ১৯৭১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেডিসিন স্কয়ারে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য আয়োজিত ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর একমাত্র জীবিত শিল্পী বব ডিলান। তাকেও বাংলাদেশে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে করোনার কারণে না আসতে পারলে তার ভিডিও বার্তা নিয়ে এসে প্রচার করা হবে। বিদেশীদের মধ্যে আরও যারা ঢাকায় আসতে পারবেন না তাদেরও ভিডিও বার্তা সংগ্রহ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রচার করা হবে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রধান অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৫০টি জাতীয় পতাকা সংবলিত সুবর্ণজয়ন্তী র‌্যালি। যা দেশের ৬৪টি জেলা প্রদক্ষিণ করে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরবে। ১৬ ডিসেম্বরই সুবর্ণজয়ন্তীর বছরব্যাপী কর্মসূচী সমাপ্ত হবে।

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আরও যেসব কর্মসূচীর প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলো হলো- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গণহত্যা বিষয়ক সেমিনার, আলোচনা সভা ও প্রদর্শনীর আয়োজন, মুক্তিযুদ্ধে বীরাঙ্গনাসহ সকল মুক্তিযোদ্ধার অবদান নিয়ে দেশব্যাপী ধারাবাহিক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ উত্তরীয়, টি-শার্ট, ক্যাপ, বীরাঙ্গনাদের শাড়ি বা শাল উপহার দেয়ার লক্ষ্যে জেলা-উপজেলায় অর্থ প্রদান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জাতীয় কুইজ, রচনা, সঙ্গীত, নৃত্য, চিত্রাঙ্কন ইত্যাদি প্রতিযোগিতা আয়োজন করা। মেলা, উৎসব বা সম্মেলন আয়োজনের মধ্যে রয়েছে দেশব্যাপী সুবর্ণজয়ন্তী মেলার আয়োজন, বছরভিত্তিক নতুন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে মুক্তির উৎসব আয়োজন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক গ্লোবাল বিজনেস সামিট আয়োজন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা।

মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাসমাবেশের আয়োজন, জেলায় ৫০টি জাতীয় পতাকাবাহী র‌্যালি প্রদর্শনীর দিনে জেলা পর্যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ আয়োজন, উপজেলা পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের আয়োজন করা।

বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে কর্মসূচী রয়েছে- সুবর্ণজয়ন্তী সৌধ, মিনার, কলাম নির্মাণ, মুক্তিযুদ্ধ পদক প্রবর্তন, দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার বাসস্থান (বীরনিবাস) নির্মাণ ও হস্তান্তর, বীরের কণ্ঠে বীরত্বগাথা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা রেকর্ড ও আর্কাইভকরণ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পরিচিতিমূলক ডিজিটাল সনদপত্র ও স্মার্টকার্ড প্রদান।

এছাড়াও আছে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সম্মাননা পাওয়া বিদেশী বন্ধুদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, প্রচার ও আর্কাইভকরণ, মিত্রবাহিনীর নিহত সদস্যদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণকাজ উদ্বোধন (ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ওই স্মৃতিস্তম্ভ বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে উদ্বোধন করতে পারেন), ভারতের ত্রিপুরায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর হেডকোয়ার্টারে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, মুজিবনগর থেকে নদিয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত স্বাধীনতা সড়কের বাংলাদেশ অংশের নির্মাণকাজ শুরু করার কর্মসূচী।

প্রকাশনার মধ্যে রয়েছে সুবর্ণজয়ন্তীর বিশেষ স্মরণিকা প্রকাশ, বঙ্গবন্ধুর জীবনপঞ্জি প্রকাশ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের অগ্রগতি বিষয়ক গ্রন্থ ও গবেষণামূলক পাণ্ডুলিপি প্রকাশের আর্থিক সহায়তা ও তা প্রকাশ, স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনপঞ্জি প্রকাশ।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে প্রচার কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার এবং মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই বিতরণ, বিশেষ মোবাইল গেমস, ডকুমেন্টারি, টিভিসি ও চলচ্চিত্র নির্মাণ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রকলা প্রদর্শনী, সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক টিভি বিজ্ঞাপন, প্রামাণ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র নির্মাণ (নৌ-কমান্ডো আক্রমণের ওপর অপারেশন জ্যাকপট), দেশের সব সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সুবর্ণজয়ন্তী কর্নার স্থাপন, জীবিত বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে টকশোর আয়োজন ও বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার, চারুকলা ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে বিশেষ ভাস্কর্য প্রদর্শনী।

সমাপনী অনুষ্ঠান হবে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের দিনে। ওইদিন প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এছাড়া বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান রাষ্ট্রনায়ক, বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, সাহিত্যিক এবং মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পাওয়া বিদেশী বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। ১৬ ডিসেম্ব ৫০টি জাতীয় পতাকা সংবলিত র‌্যালি সব জেলা প্রদক্ষিণ শেষে ঢাকার মূল অনুষ্ঠানে আসবে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের কাছে পতাকা তুলে দেবেন। রাতে আমন্ত্রিত অতিথিদের নৈশভোজের আয়োজন করা হবে। দেশাত্মবোধক সঙ্গীত, নৃত্য, আতশবাজি, আলোকসজ্জা ইত্যাদির মাধ্যমে বছরব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে সরকার এই দিনটিকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করছে। এর আগে ১৯৯৬ সালে প্রথমবার এই দিনটিকে জাতীয় শিশু দিবস ঘোষণা করা হয়েছিল। গত বছর মহান স্বাধীনতার স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালীর জন্মশতবর্ষ স্মরণীয় করে রাখতে ‘মুজিব শতবর্ষ’ পালনের সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন থেকে শতবর্ষের বছরব্যাপী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল। অনুষ্ঠান চলার সময় নির্ধারিত ছিল ২০২১ সালের ২৬ মার্চ, অর্থাৎ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর তারিখ পর্যন্ত। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে পরিকল্পিত উপায়ে মুজিব শতবর্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠানসহ বড় অনুষ্ঠানগুলো হয়নি। সে কারণে মুজিব শতবর্ষের মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। ১০ দিনের বড় অনুষ্ঠান করে জাতির পিতা এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখতে চাইছে সরকার। এর বাইরে বছরব্যাপী সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের অন্যান্য অনুষ্ঠানও পালিত হবে। উভয় অনুষ্ঠানই শেষ হবে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর।

১০ দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রতিদিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে রাত ৮টায় শেষ হবে। প্রতিদিনের অনুষ্ঠানে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৩০ মিনিটের বিরতি থাকবে। প্রতিদিন থাকবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আরবিসি/১৬ মার্চ/ রোজি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category