রাজশাহীতে নারীসহ আটক সেই ভাইরাল ওসি মাহাবুবকে ছেড়ে দিল পুলিশ!
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে ফ্ল্যাটে নারীসহ আটক হওয়া সাবেক ওসি মাহবুব আলমকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে আটক ওই সানজিদা মৌ নামের নারীকেও পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ বলছে, মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে সানজিদার কোনো অভিযোগ নেই। তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সানজিদা যদি কোনো অভিযোগ করতেন, তাহলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ছিল। তাঁর কোনো অভিযোগ না থাকায় মাহবুবকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, সানজিদা মৌকে মাহবুব আলম নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি বলেও জানান আরএমপির এই পুলিশ কর্মকর্তা।
মাহবুব আলম একসময় চন্দ্রিমা ও দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। তার বহুবিবাহের অভ্যাস আছে। সাবেক একজন স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশ থেকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন। সেখান থেকেই বিনাছুটিতে রাজশাহী এসে চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি চারতলা ভবনের দোতলার ফ্ল্যাটে নারী নিয়ে অবস্থান করছিলেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর এক ভাড়া বাসায় ওসি মাহাবুব নারীসহ অবস্থানকালীন ওই ফ্ল্যাটে হাজির হন আন্নি আক্তার নামের এক নারী। তার বাড়ি নওগাঁ। তিনি মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তিনি দরজা ধাক্কাধাক্কি করেও মাহবুব আলম ফ্ল্যাটের দরজা খোলেননি। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে দরজা ভাঙে। তখন ওই ফ্ল্যাটে শুধু মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামের এক নারীকে পাওয়া যায়। পরে পুলিশ দুজনকে চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে যায়। এরপর বিকেলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আন্নি আক্তার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, মাহবুব আলম একের পর এক পরকীয়া সম্পর্কে অভ্যস্ত। সানজিদা মৌয়ের সঙ্গেও তার পরকীয়া আছে। গত চারমাসে এ নিয়ে তিনবার তিনি তাদের একসঙ্গে পেলেন। তবে মান-সম্মানের ভয়ে আগের দুবারের ঘটনা কাউকে জানাননি।
সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই। তিনি কাউকে জানিয়েও রাজশাহী যাননি। বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ করাও একটা অপরাধ। তিনি জানান, মাহবুব আলম সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।
আরবিসি /১৮ সেপ্টেম্বর'২৬/ রোজি