মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

রিয়াদে ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে হাজারো প্রবাসী

আরবিসি নিউজ
আরবিসি নিউজ
১২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৩ অপরাহ্ন
রিয়াদে ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে হাজারো প্রবাসী

রিয়াদে হামলার পর বিমানবন্দর বন্ধ, অনিশ্চয়তায় সৌদিগামী যাত্রীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জেরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেও অনেকে ফিরতে পারছেন না সৌদি আরবে।


অন্যদিকে, রিয়াদে আটকে পড়েছেন দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা হাজারো যাত্রী। কবে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকা থেকে রিয়াদগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া, রিয়াদ এয়ার ও শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন প্রবাসীরা।


বিমানবন্দরে আসা একজন সৌদি প্রবাসী  ছুটি কাটিয়ে রোববার দুপুরে সৌদি আরবে ফেরার কথা ছিল। আগেই টিকিট কেটে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।


কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পরবর্তী ফ্লাইট কখন ছাড়বে, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছিলেন না।

বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে দাঁড়িয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। আমাকে যে কোনো মূল্যে সৌদি আরব যেতে হবে। সময়মতো যেতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হবে। পরবর্তী ফ্লাইটের সিদ্ধান্ত জানানো হলে ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমত।’


রফিকুলের মতো অনেক প্রবাসীই এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারলে চাকরি, ভিসার মেয়াদ ও নিয়োগকর্তার শর্ত নিয়ে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণহানি ও বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হওয়ার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। হামলার পর সৌদি আরবের বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। 

বিমানবন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে অন্তত ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ঢাকায় সৌদি আরবগামী প্রায় তিন হাজার যাত্রী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, রিয়াদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় আটকা পড়েছেন প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি যাত্রী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে এরপর ফ্লাইট চলাচল কখন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করছে। যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার সময় নিশ্চিত হওয়ার পর বিমানবন্দরে আসার অনুরোধ জানান তিনি। তারা বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।

rbcnewsbd.com
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

রিয়াদে ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে হাজারো প্রবাসী

রিয়াদে ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে হাজারো প্রবাসী

রিয়াদে হামলার পর বিমানবন্দর বন্ধ, অনিশ্চয়তায় সৌদিগামী যাত্রীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জেরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেও অনেকে ফিরতে পারছেন না সৌদি আরবে।


অন্যদিকে, রিয়াদে আটকে পড়েছেন দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা হাজারো যাত্রী। কবে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকা থেকে রিয়াদগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া, রিয়াদ এয়ার ও শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন প্রবাসীরা।


বিমানবন্দরে আসা একজন সৌদি প্রবাসী  ছুটি কাটিয়ে রোববার দুপুরে সৌদি আরবে ফেরার কথা ছিল। আগেই টিকিট কেটে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।


কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পরবর্তী ফ্লাইট কখন ছাড়বে, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছিলেন না।

বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে দাঁড়িয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। আমাকে যে কোনো মূল্যে সৌদি আরব যেতে হবে। সময়মতো যেতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হবে। পরবর্তী ফ্লাইটের সিদ্ধান্ত জানানো হলে ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমত।’


রফিকুলের মতো অনেক প্রবাসীই এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারলে চাকরি, ভিসার মেয়াদ ও নিয়োগকর্তার শর্ত নিয়ে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণহানি ও বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হওয়ার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। হামলার পর সৌদি আরবের বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। 

বিমানবন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে অন্তত ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ঢাকায় সৌদি আরবগামী প্রায় তিন হাজার যাত্রী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, রিয়াদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় আটকা পড়েছেন প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি যাত্রী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে এরপর ফ্লাইট চলাচল কখন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করছে। যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার সময় নিশ্চিত হওয়ার পর বিমানবন্দরে আসার অনুরোধ জানান তিনি। তারা বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।