“প্রশাসন ক্যাডার হয়ে দেশের সেবা করতে চাই”- বৃত্তিপ্রাপ্ত মোক্তাদিরের স্বপ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : “বৃত্তি পেয়েছি শুনে আমি অনেক খুশি হয়েছি। বাবা-মায়ের মুখে হাসি দেখে মনে হয়েছে, তাদের এত দিনের কষ্ট যেন আজ সার্থক হয়েছে। আমি তাদের এই ত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেব না। আরও মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে প্রশাসন ক্যাডার হতে চাই, যাতে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পারি।” সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে কথাগুলো বলছিল রাজশাহীর পবা উপজেলার ভালুকপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. মোক্তাদির হোসেন। ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে বৃত্তি অর্জনের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে এসব কথা বলে সে।
মোক্তাদির জানায়, পরিবারের সীমাবদ্ধতা থাকলেও তার বাবা-মা কখনো পড়াশোনার ক্ষেত্রে আপস করেননি। নিজেদের কষ্টের কথা গোপন রেখে সবসময় তাকে উৎসাহ দিয়েছেন। তাই এই অর্জনকে সে শুধু নিজের নয়, বাবা-মা ও শিক্ষকদের সম্মিলিত সাফল্য বলে মনে করে। সে আরও বলে, “আমার শিক্ষকরা সবসময় আমাকে সাহস দিয়েছেন। কোনো বিষয় না বুঝলে বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাদের ভালোবাসা আর বাবা-মায়ের দোয়া ছাড়া আমি আজকের এই জায়গায় আসতে পারতাম না। আমি চাই, ভবিষ্যতে এমন কিছু করতে, যাতে আমার পরিবার, বিদ্যালয় এবং দেশ আমার জন্য গর্ব করতে পারে।”
ভালুকপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবেরা সুলতানা স্নিগ্ধা বলেন, মোক্তাদির অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করেছে বলেই সে এই সাফল্য অর্জন করেছে। বিদ্যালয়ের ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একমাত্র বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী হিসেবে সে বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন তিনি।
মোক্তাদিরের পিতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, “ছেলের এই অর্জনে আমাদের সব কষ্ট সার্থক হয়েছে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে তাকে মানুষ করার চেষ্টা করছি। আল্লাহর রহমতে সে বৃত্তি পেয়েছে। আমরা চাই, সে উচ্চশিক্ষিত হয়ে একজন সৎ ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে দেশের সেবা করুক।”
মোক্তাদিরের এই সাফল্য শুধু একটি বৃত্তি অর্জনের গল্প নয়; এটি একজন স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থী, তার বাবা-মায়ের ত্যাগ এবং শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার এক অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায়। ছোট্ট এই অর্জনই তার বড় স্বপ্নের পথে প্রথম দৃঢ় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।