পৈত্রিক ভিটা দখল, হামলা, ঘুষ দাবি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার : পৈত্রিক ভিটা দখল, একাধিক হামলা, মামলা গ্রহণে ঘুষ দাবি, মিথ্যা মামলা দায়ের এবং পুলিশি সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাজশাহীর মতিহার থানাধীন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জাপুর পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাদ্দাম হোসেন বলেন, তার দাদা রেখে যাওয়া প্রায় ৪২ শতাংশ পৈত্রিক জমির একটি ছোট অংশে তারা দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন। কিন্তু তার দুই ফুপু আশরাফোন বিবি ও বেগম ওই জমির বড় অংশ দখল করে রেখেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি দাবি করেন, তার ফুপুরা তাদের দাদির নামে সম্পাদিত একটি দলিল দেখিয়ে জমির মালিকানা দাবি করছেন। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা জানতে পেরেছেন, নওগাঁ জেলার অন্য একটি জমির দলিল নম্বর ব্যবহার করে রাজশাহীর ওই জমির মালিকানা দাবি করা হচ্ছে।
বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার দুই ফুপু ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে প্রবেশ করে তার ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। ওই ঘটনায় একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আরও দুই দফা তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং তারা যে অংশে বসবাস করছিলেন, সেই জায়গারও প্রায় অর্ধেক জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাদ্দাম হোসেন আরও অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার পর তিনি ও তার পিতা আবুল কালাম আজাদ মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে থানার এসআই রিপন ও এসআই জাকারিয়া মামলা গ্রহণের জন্য ২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার দুই ফুপু আশরাফোন বিবি ও বেগম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নামে একটি ভুয়া চিকিৎসা প্রতিবেদন ও এক্স-রে রিপোর্ট দাখিল করে তাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরবর্তীতে ওই মামলায় আদালত থেকে জামিন লাভ করার পর তারা নিজেদের অভিযোগ জনসমক্ষে তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন বলে জানান।
সাদ্দাম হোসেনের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা জানতে পেরেছেন, প্রতিপক্ষ যে চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিল করেছে, তা সঠিক নয়। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, তার মা স্ট্রোকে আক্রান্ত এবং বর্তমানে আংশিক মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে তাদের বসতবাড়ির পাশের গাছে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের কাছে পৈত্রিক সম্পত্তি আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ন্যায্য বণ্টনের ব্যবস্থা, জমি দখল ও হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলা গ্রহণে ঘুষ দাবির অভিযোগ তদন্ত, কথিত ভুয়া চিকিৎসা নথি যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।